হেমাকে পেতে বদলেছিলেন ধর্ম, তবু প্রথম স্ত্রীকে দেননি বিচ্ছেদ! শেষ জীবনে কার সঙ্গেই ছিলেন ধর্মেন্দ্র?
বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আজ আর নেই। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, সংসার এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনও সমানভাবে চর্চিত। বিশেষ করে ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর প্রেমকাহিনি যেন আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
হেমার প্রেমে পড়ার সময় ধর্মেন্দ্র ছিলেন বিবাহিত। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কউরের সঙ্গে তাঁর সংসারে তখন চার সন্তান। কিন্তু হেমা মালিনীর প্রতি গভীর টান শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্রকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সেই সময় বলিউডে যথেষ্ট চর্চার জন্ম দিয়েছিল।
প্রকাশ কউরের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘দিলাওয়ার খান’ নামে বিয়ে করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি ও বিতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, হেমা মালিনীও প্রকাশ কউরের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে কোনও বড় ধরনের সংঘাতে জড়াননি। দুই সংসারই নিজেদের মতো করে চলতে থাকে। প্রকাশ কউর ও ধর্মেন্দ্রর চার সন্তান—সানি দেওল, ববি দেওল এবং দুই কন্যা। পরে হেমা মালিনীর সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর দুই কন্যা—এশা দেওল ও অহনা দেওল।
শেষ বয়সে পাশে কে?
ধর্মেন্দ্রর জীবনের শেষ পর্বে তাঁর পাশে কে ছিলেন—এই প্রশ্নও কম চর্চিত নয়। এক সাক্ষাৎকারে ববি দেওল জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা একা থাকতেন না। বরং খান্ডালার ফার্মহাউসে প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কউরের সঙ্গেই সময় কাটাতেন তিনি।
ববির কথায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’জনেই শান্ত পরিবেশে থাকতে পছন্দ করতেন। খান্ডালার সুন্দর আবহাওয়া, ভালো খাবার এবং নিরিবিলি পরিবেশ তাঁদের সময় কাটানোর অন্যতম কারণ ছিল। ববির ভাষায়, ধর্মেন্দ্র সেই জায়গাটিকে যেন এক টুকরো স্বর্গে পরিণত করেছিলেন।
‘মায়ের জন্যই আজ এত বড় তারকা বাবা’
ববি দেওল তাঁর মা প্রকাশ কউরের ভূমিকা নিয়েও আবেগপ্রবণ কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, পরিবারে প্রকাশ ছিলেন এক শক্ত স্তম্ভ। প্রতিদিনই মায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হতো। শুধু সন্তানদের নয়, ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পিছনেও প্রকাশ কউরের অবদান ছিল বলে মনে করেন ববি।
ববির বক্তব্য অনুযায়ী, একজন মানুষ যেমন তাঁর স্ত্রীর পাশে থাকার কারণে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন, তেমনই ধর্মেন্দ্রর সাফল্যের পিছনেও প্রকাশ কউরের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
হেমা মালিনী ছিলেন ধর্মেন্দ্রর বহুলচর্চিত দ্বিতীয় সংসারের সঙ্গী। প্রকাশ কউর ছিলেন তাঁর প্রথম জীবনের সঙ্গী। দুই সংসার, ছয় সন্তান এবং একাধিক সম্পর্কের সমীকরণ—সব মিলিয়ে ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিগত জীবনও যেন ছিল তাঁর সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই নাটকীয়।
তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার উঠে এসেছে সেই পুরনো সম্পর্কই—যে সম্পর্কের আইনি বিচ্ছেদ না হলেও, সময়ের সঙ্গে তার সমীকরণ বদলেছে বহুবার।




